Header Ads

জানুন ঢালিউড অভিনেতাদের ছবি প্রতি পারিশ্রমিক!

ঢালিউড তারকাদের পারিশ্রমিক!
ঢালিউড তারকাদের পারিশ্রমিক!

[ঢালিউড : পারিশ্রমিক]

জানুন ঢালিউড অভিনেতারা ছবি প্রতি কত পারিশ্রমিক পান।

ঢালিউডের ইতিহাস অনেক পুরোনো হলেও বর্তমানের সাথে যথাযথ তাল মিলাতে পারে নি বলে এক সময় বাড়তে থাকা হলের সংখ্যা আজ তলানিতে এসে ঠেকেছে। অর্থাৎ ঢালিউডে সিনেমা প্রেমী বাড়লেও সিনেমার বাজার বাড়ে নি। ফলে দর্শকরা টালিউড, বলিউড, হলিউড ছবির প্রতি ঝুঁকে গেছে। যার কারণে ঢালিউড দিনের পর দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। যেখানে এক সময় ছবি একাধিক ছবি মুক্তি পেত, সেখানে এখন খুব কম সংখ্যক ছবি মুক্তি পাই। এবং মুক্তি পাওয়া কয়েকটা ছবি ছাড়া বাকি সব ছবিই ব্যর্থ হয়। 

এক সময় ঢালিউডে সুপারস্টারদের ছড়াছড়ি ছিল অথচ বর্তমানে শাকিব খান ছাড়া আর তেমন কোন সুপারস্টার নেই বললেই চলে। তথাপি কয়েক জন অভিনেতা বাণিজ্যিক ধারার ছবির মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছে ঢালিউডকে আবারো সমৃদ্ধ করতে। ব্যতিক্রমী কিছু ছবি যেমন ‘মনপুরা’, ‘আয়নাবাজি’ মাঝে মাঝে ঢালিউডকে পুরনোদিনগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু এ ধরণের ছবি বছর বছর পাওয়া যায় না। বর্তমানে যারা ঢালিউডে নিয়মিত কাজ করছেন সে সব অভিনেতাদের ছবি প্রতি কত পারিশ্রমিক পান-তার একটা ধারণা নিচে দেওয়া হল।

ঢালিউডের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা ১০টি ছবি!

ঢালিউড তারকাদের পারিশ্রমিক প্রদান করা হল :

১. শাকিব খান

বর্তমান ঢালিউডের একমাত্র সুপারস্টার শাকিব খান একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ’অনন্ত ভালবাসা’ দিয়ে ঢালিউডে যাত্রা শুরু হলেও ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কোটি টাকার কাবিন’ দিয়ে সুপারস্টার হওয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করে শাকিব খান। এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। ঢালিউডে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে শাকিব খান। ফলে বাংলা সিনেমার দর্শকদের উপহার দিতে থাকে ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘এক টাকার বউ’, ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’, ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’, ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘দেবদাস’, ’পূর্ণ দৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’, ‘শিকারী’ ইত্যাদি জনপ্রিয় সব ছবি। এর মধ্যে ’শিকারী’ ঢালিউডে সময়ের সব চেয়ে বড় ব্যবসা সফল ছবি হিসেবে সাফল্য অর্জন করেন। সুপারস্টার হওয়ার পর প্রতিটা ঈদেই শাকিব খানের একাধিক ছবি মুক্তি পেত এবং বক্সঅফিস শাসন করত। 

চলতি বছরেও এ তারকার তিনটি ছবি মুক্তি পাই যার মধ্যে দুইটি গেল ঈদে মুক্তি পেল। ‘রাজনীতি’ ও ‘নবাব’ ঈদে মুক্তি পেয়ে যথারীতি ব্যবসায়িক সাফল্য এনে দেয় ঢালিউডকে। যার ফলে্ এই সুপারস্টার এক সময় ছবি প্রতি ৪০ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নিত এবং শিডিউল দিত মাত্র ৪০ দিন। যার মাধ্যমে ঢালিউডের ইতিহাসে শাকিব খানই একমাত্র অভিনেতা যে প্রতি দিন ১ লক্ষ টাকা করে প্রযোজকদের কাছ থেকে পারিশ্রমিক পেত। কিন্তু বর্তমানে ঢালিউডের বাজার মন্দা চলার কারণে শাকিব খানও পারিশ্রমিক কমিয়ে দেন। এখন এ অভিনেতা ছবি প্রতি ৩০ লক্ষ টাকা থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা পর্য্ন্ত পারিশ্রমিক দাবি করেন। সেই সাথে যৌথ প্রযোজনার ছবি হলে ৪০ লক্ষ টাকার কম পারিশ্রমিক নেন না। ফলে বাংলা সিনেমার (ঢালিউড ও টালিউড) মিলিয়ে শাকিব খানই সর্বাধিক পারিশ্রমিক নেয়া তারকা। কোরবানের ঈদে মুক্তি দেওয়ার জন্য এ তারকার ‘রংবাজ’ ও ‘অহংকার’ ইতোমধ্যে হল বুকিং শুরু করে দিয়েছে। সেই সাথে বিদ্যা সিনহা সাহা মীমে সাথে ‘আমি নেতা হতে চাই’ ছবিতে শুটিং করছেন।

ঢালিউডের নতুন ছবি ‘নূপুর’ এর জন্য সম্প্রতি শাকিব খান পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন বলে মিডিয়ায় খবর ছড়িয়েছে। ফলে যৌথ প্রযোজনার পাশাপাশি দেশীয় ছবিতেও পঞ্চাশ লক্ষ পারিশ্রমিক দাবি করছেন বাংলা সিনেমার সর্বাধিক ব্যস্ততম এ তারকা।

পড়ুন: শাকিব খানের আপকামিং মুভি; নতুন মুভির খবর! 

২. ফেরদৌস আহমেদ

সুপারস্টার ফেরদৌস আহমেদ ঢালিউডে একসময় রাজত্ব করত। ১৯৯৮ সালে ’হঠাৎ বৃষ্টি’ দিয়ে হঠাৎ করেই ঢালিউডকে সাফল্যর বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দিয়েছে এ তারকার। ঢালিউডের পাশাপাশি টালিউডকে এগিয়ে নিয়েছে ফেরদৌস। দুই বাংলায় জনপ্রিয় এ তারকা ঢালিউডকে ‘ব্যাচেলর’, ‘রাক্ষসী’, ‘আমার স্বপ্ন তুমি’, ‘আমার আছে জল’, ‘গোলাপী এখন বিলেতে’, ‘খায়রুন সুন্দরী’, ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ ইত্যাদি জনপ্রিয় সব ছবি উপহার দিয়েছে। ঢালিউডের পাশাপাশি এ তারকার টালিউডে সমান অভিনয় করে গেছেন। প্রায় বিশ বছর ধরে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে আসা এ তারকা এখনো ঢালিউডে কাজ করে যাচ্ছেন। অভিনয় করছেন বাণিজ্যিক ধারায় বাইরে ভিন্নধর্মী কিছু ছবিতে। বর্তমানে এ তারকা ছবি প্রতি ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্য্ন্ত পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন।

৩. বাপ্পি

বাপ্পি চৌধুরী ঢালিউডের আরেক ব্যস্ত নায়ক। ২০১০ সালের পর ঢালিউডে অনেক নতুন অভিনেতার আগমন ঘটলেও যে কজন অভিনেতা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে তার মধ্যে বাপ্পি চৌধুরী প্রথম দিকেই থাকবে। ২০১২ সালে ঢালিউডে ‘ভালবাসার রঙ’ দিয়ে অভিষেক ঘটে এ তারকার। প্রথম ছবিতেই সাফল্য পাই এ তারকা। ‘ভালবাসার রঙ’ ২০১২ সালে অন্যতম ব্যবসা সফল ছবি। এর পর ঢালিউডকে এ তারকা উপহার দিতে থাকে ‘অন্যরকম ভালবাসা’, ‘জটিল প্রেম’, ‘কি প্রেম দেখাইলা’, ‘লাভ স্টেশন’, ‘অনেক সাধের ময়না’, ‘সুইটহার্ট’ এর মত সফল সব ছবি। চলতি বছর এ তারকার মুক্তি পাই ‘কত স্বপ্ন কত আশা’, ‘সুলতানা বিবিয়ানা’। কাজ করছেন আরো বেশ কিছু ছবিতে। ঢালিউডে জনপ্রিয় এ তারকা ছবি প্রতি ১০ লক্ষ টাকা থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্য্ন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

৪. আরেফিন শুভ

ঢালিউডে বর্তমানে ব্যস্ত তারকা আরেফিন শুভ ২০১০ সালে ‘জাগো’ দিয়ে আলোচনায় আসলেও নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাই ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পূর্ণ দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ দিয়ে। অতঃপর ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবি দিয়ে একক নায়ক হিসেবে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এই তারকা। এর পর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি আরেফিন শুভকে। একে একে ঢালিউডকে উপহার দিতে থাকে ‘মুসাফির’, ‘অস্তিত্ব’, ‘নিয়তি’, ‘প্রেমী ও প্রেমী’ ইত্যাদি জনপ্রিয় সব ছবি। একক তারকা হিসেবে এ অভিনেতার সর্বাধিক ব্যবসা সফল ছবি ‘ছুঁয়ে দিলে মন’। চলতি বছর এ তারকার ’প্রেমী ও প্রেমী’ ও ‘ধ্যাততেরিকি’ নামে দুটি ছবি মুক্তি পাই; মুক্তির অপেক্ষায় আছে ’মৃত্যুপুরী’, ‘ঢাকা এট্যাক’; চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ‘ভাল থেকো’, ‘মুসাফির ২’ ছবি দুটিতে। ঢালিউডে জনপ্রিয় এ তারকা ছবি প্রতি ৮ লক্ষ টাকা থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্য্ন্ত পারিশ্রমিক দাবি করেন।

৫. সাইমন

’জ্বি হুজুর’ দিয়ে ২০১২ সালে ঢালিউডে সাইমন সাদিক যাত্রা শুরু করে। ’পোড়ামন’ দিয়ে ঐ বছরি এ তারকার জনপ্রিয়তা লাভ করে। এর পর চেষ্টা করে যাচ্ছে ঢালিউডকে ভাল কিছু ছবি উপহার দিতে। যার ফলে এ তারকার মুক্তি পাই ‘তোমার কাছে ঋণী’, ‘মিয়া বিবি রাজি’, ‘সেই তুমি’, ‘মনের মধ্যে লেখা’ ইত্যাদি সব ছবি। কাজ করছেন ‘নদীর বুকে চাঁদ’ নামক ছবিতে। ঢালিউডের এ অভিনেতা ছবি প্রতি ৫ লক্ষ টাকা থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্য্ন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.