Header Ads

ফিল্ম ইন্ডাট্রির দিক থেকে বিশ্বের সেরা ১০ দেশ!

বিশ্বের সেরা ১০ দেশ।
ফিল্ম ইন্ডাট্রির ভিত্তিতে বিশ্বের সেরা দশ দেশ!

 [রঙধারা স্পেশাল]

ফিল্ম ইন্ডাট্রির দিক থেকে বিশ্বের সেরা ১০ দেশ!


বিশ্বের প্রায় সিংহভাগ দেশেই ফিল্ম নির্মিত হলেও ফিল্ম প্রদর্শন করা হয় না বা ফিল্ম দেখে না এমন দেশ নেই বললেই চলে। মোটামুটি সারা বিশ্বেই ফিল্ম প্রদর্শন করা হয়। যার ফলে সারা বিশ্ব জুড়ে প্রায় ১,৬৪,০০০ এর মত ফিল্ম প্রদর্শনের জন্য স্ক্রিন আছে। বছরে এ ফিল্ম ইন্ডাট্রি প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের মত আয় করে। নিচে বিশ্বের সেরা দশটি ফিল্ম ইন্ডাট্রি তথ্য প্রদান করা হল।

১০. মেক্সিকো

মেক্সিকো ফিল্ম ইন্ডাট্রি বিশ্বের দশম স্থান অধিকার করে আছে। এ ইন্ডাট্রিতে ৬০০০ মত স্ক্রিন আছে ফিল্ম প্রদর্শন করার জন্য। বিশ্ব ফিল্ম আয়ের প্রায় ২ ভাগ আসে এ ইন্ডাট্রি থেকে। ২০১৬ সালে এ খাত থেকে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন মেক্সিকো যা রুপিতে প্রায় ৫,০৪০ কোটি (৬৩ রুপি/মার্কিন ডলার) এবং টাকায় ৬,৮০০ কোটি (৮৫ টাকা/মার্কিন ডলার)। মেক্সিকো ফিল্ম ইন্ডাট্রি বছরে একশ এর কাছাকাছি ফিল্ম প্রোডিউস করে, যার মাধ্যমে মোট আয়ের প্রায় ৫ ভাগ আয় করতে সক্ষম হয়। বাকী ৯৫ ভাগ আয় আসে আমদানিকৃত ফিল্ম থেকে, যার সিংহ ভাগ হলিউড নির্মিত ফিল্ম।

০৯. অস্ট্রেলিয়া

ফিল্ম ইন্ডাট্রির দিক থেকে বিশ্বের সেরা ১০ দেশের তালিকায় ৯ নম্বরে আছে অস্ট্রেলিয়া। এ ইন্ডাট্রি থেকে ২০১৬ সালে ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় আসে যা রুপিতে প্রায় ৫,৬৭০ কোটি (৬৩ রুপি/মার্কিন ডলার) এবং টাকায় ৭,৬৫০ কোটি (৮৫ টাকা/মার্কিন ডলার)। বিশ্ব ফিল্ম আয়ের ২ ভাগের অধিক আয় আসা এ ইন্ডাট্রিতে সিনেমা প্রদর্শন করার জন্য স্ক্রিন আছে মাত্র ২০০০ এর কাছাকাছি। বছরে এ ইন্ডাট্রি খুব বেশি ছবি নির্মাণ করে না। ২০১১ সালের এক হিসাব অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া ফিল্ম নির্মাতারা মাত্র ৪৩টি ছবি নির্মাণ করেন। ফলে মোট আয়ের মাত্র ৪ ভাগ যোগান দিনে পারে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ফিল্মগুলো। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের মত এ দেশেও ৯৫ ভাগ আয় আসে আমদানিকৃত ফিল্ম থেকে, যার সিংহ ভাগ হলিউড নির্মিত ফিল্ম।

০৮. জার্মানি

বিশ্ব ফিল্ম ইন্ডাট্রির মধ্যে জার্মানির অবস্থান অষ্টম। বিশ্বের ফিল্ম আয়ের তিন ভাগ দখল করে আছে এ ইন্ডাট্রি। ৫০০০ স্ক্রিনের কাছাকাছি এ ইন্ডাট্রি ২০১৬ সালে ফিল্ম প্রদর্শন থেকে ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে যা রুপিতে প্রায় ৬,৯৩০ কোটি (৬৩ রুপি/মার্কিন ডলার) এবং টাকায় ৯,৩৫০ কোটি (৮৫ টাকা/মার্কিন ডলার)। মোট আয়ের ২৭ ভাগ যোগান দিয়ে থাকে জার্মানিতে নির্মিত ছবিগুলো থেকে। বাকী ৬৩ ভাগ আমদানিকৃত ফিল্ম থেকে। জার্মানি ফিল্ম ইন্ডাট্রি বছরে দুই শত এর অধিক ফিল্ম নির্মাণ করে থাকে।

০৭. দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার ফিল্ম ইন্ডাট্রি বিশ্বের মধ্যে সপ্তম স্থান দখল করে আছে। সমগ্র দক্ষিন কোরিয়া জুড়ে প্রায় ২০০০ এর অধিক স্ক্রিন আছে।  ২০১৬ সালে দক্ষিন কোরিয়া এ খাত থেকে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন, যা রুপিতে প্রায় ৯,৪৫০ কোটি (৬৩ রুপি/মার্কিন ডলার) এবং টাকায় ১২,৭৫০ কোটি (৮৫ টাকা/মার্কিন ডলার)। বছরে এ ইন্ডাট্রি থেকে প্রায় ১২০ টির অধিক ফিল্ম নির্মিত হয়। বিশ্ব ফিল্ম আয়ের ৪ ভাগ আসে এ ইন্ডাট্রি থেকে।

০৬. ফ্রান্স

ফ্রান্স বিশ্বের ষষ্ট বৃহৎ ফিল্ম ইন্ডাট্রি। বছরে এ ইন্ডাট্রি থেকে বিশ্ব ফিল্ম আয়ের ৪ ভাগের অধিক আয় আসে। ছয় হাজারের কাছাকাছি স্ক্রিন আছে এ ইন্ডাট্রিতে। ২০১৬ সালে এ ইন্ডাট্রি থেকে ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় আসে যা রুপিতে প্রায় ১০,০৮০ কোটি (৬৩ রুপি/মার্কিন ডলার) এবং টাকায় ১৩,৬০০ কোটি (৮৫ টাকা/মার্কিন ডলার)। তিনশর কাছাকাছি ফিল্ম নির্মিত হয় এ ইন্ডাট্রিতে যা মাধ্যমে মোট আয়ের ৪৪ শতাংশ দখল করেছে জাতীয় নির্মিত মুভিগুলো। বাকী ৫৬ শতাংশ আয় আসে আমদানিকৃত ছবি থেকে।

০৫. ভারত

ভারত বিশ্বের বৃহৎ ছবি নির্মাণকারী দেশ। তবে বিশ্ব ফিল্ম ইন্ডাট্রির দিকে থেকে পঞ্চম স্থানে পরে আছে এ বৃহৎ ছবি নির্মাণকারী দেশটি। ২০১৬ সালে ভারত এ খাত থেকে ১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন যা রুপিতে প্রায় ১১,৯৭০ কোটি (৬৩ রুপি/মার্কিন ডলার) এবং টাকায় ১৬,১৫০ কোটি (৮৫ টাকা/মার্কিন ডলার)। ফলে বিশ্ব আয়ের মাত্র পাঁচ ভাগ দখল করতে সক্ষম হয়েছে এ দেশটি। বিশ্বের বৃহৎ ছবি নির্মাণকারী দেশ হিসেবে এ ইন্ডাট্রি থেকে বছরে প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি ছবি নির্মাণ করা হয়। দশ হাজারের কাছাকাছি স্ক্রিন নিয়ে গঠিত এ ইন্ডাট্রি জনসংখ্যা বিচারে সবচেয়ে কম স্ক্রিনের অধিকারী হিসেবে ধরা হয়। তবে অন্যান্য ইন্ডাট্রির মত আমদানিকৃত ছবি থেকে আয় খুব একটা আসে না বললেই ছলে। মোট আয়ের সিংহভাগই দখল করেছে দেশীয়ভাবে নির্মিত ছবিগুলো। সেই সাথে বিশ্বে ছবি রপ্তানি করেও ভাল একটি অংশ আয় করে এ ইন্ডাট্রিতে নির্মিত ছবিগুলো। এ ইন্ডাট্রিতে একাধিক ভাষায় ছবি নির্মাণ করা হয়। বিশ্বে পরিচিতি লাভ করা সিনেমা নির্মাণ কারী ইন্ডাট্রি বলিউড এ ইন্ডাট্রির অধীনে রয়েছে।

০৪. জাপান

২০১২ সাল পর্য্ন্ত এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি দেশ জাপান বর্তমানে এশিয়ার দ্বিতীয় এবং বিশ্বের চতুর্থ ফিল্ম ইন্ডাট্রির দেশ। বিশ্ব ফিল্মের ৫ ভাগ আয় আসে জাপান থেকে। ২০১৬ সালে জাপান এ খাত থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন যা রুপিতে প্রায় ১২,৬০০ কোটি (৬৩ রুপি/মার্কিন ডলার) এবং টাকায় ১৭,০০০ কোটি (৮৫ টাকা/মার্কিন ডলার)। ৩,৫০০ মত স্ক্রিন নিয়ে জাপান ফিল্ম ইন্ডাট্রি গেল বছর যে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে তার ৬৩.১ ভাগ আসে নিজস্ব ফিল্ম ইন্ডাট্রিতে নির্মিত ছবি থেকে এবং বাকি ৩৬.৯ ভাগ আসে আমদানিকৃত ফিল্ম থেকে। জাপানের ফিল্ম ইন্ডাট্রিতে বছরে ৬০০ এর অধিক ফিল্ম নির্মিত হয় ।

পড়ুন : বক্সঅফিস সংঘর্ষ নিয়ে প্রকাশিত সব খবর!

০৩. যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য ফিল্ম ইন্ডাট্রির বিশ্ব ফিল্ম ইন্ডাট্রির দিক থেকে তৃতীয় স্থান দখল করেছে। ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্য ৬.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন যা রুপিতে প্রায় ৪০,৯৫০ কোটি (৬৩ রুপি/মার্কিন ডলার) এবং টাকায় ৫৫,২৫০ কোটি (৮৫ টাকা/মার্কিন ডলার)। বিশ্ব ফিল্ম আয়ের প্রায় ১৭ ভাগের কাছাকাছি দখল করে থাকা যুক্তরাজ্যের ফিল্ম ইন্ডাট্রির সবচেয়ে বড় প্রডিউসার কোম্পানি পিনউড স্টুডিউস্। ২০১৬ সালে এ স্টুডিউস্ একাই যুক্তরাজ্যে ফিল্ম ইন্ডাট্রিতে প্রায় ২.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বিশ্ব ফিল্ম ইন্ডাট্রিতে যুক্তরাজ্যের অবদান বাড়াতে সরকার ফিল্ম ইন্ডাট্রিকে ট্যাক্স মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

পড়ুন : প্রভাসের আপকামিং মুভি; নতুন ছবির খবর!

০২. ‍চীন

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হলেও ফিল্ম ইন্ডাট্রির দিক থেকে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে চীন। যুক্তরাজ্যের থেকে সামান্য বেশি আয় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীন বিশ্ব ফিল্ম আয়ের প্রায় ১৭ ভাগ দখল করে আছে। ২০১৬ সালে চীন ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন যা রুপিতে প্রায় ৪১,৫৮০ কোটি (৬৩ রুপি/মার্কিন ডলার) এবং টাকায় ৫৬,১০০ কোটি (৮৫ টাকা/মার্কিন ডলার)। চীনের মোট ফিল্ম আয়ে অর্ধেক আসে হলিউডে নির্মিত ফিল্ম থেকে। ২০১৬ সালে হলিউডের ফিল্ম চীনে মুক্তি দিয়ে মোট আয়ের প্রায় ৪১.৭% ভাগ ব্যবসা এনে দিয়েছে। চীন বছরে দেড় হাজারের অধিক সিনেমা নির্মাণ করে। চীনে ফিল্ম প্রদর্শনের জন্য ৪০,০০০স্ক্রিন রয়েছে। ২০১৩ সালে চীন এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফিল্ম ইন্ডাট্রির দেশ হিসেবে জাপানকে সরিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নেয়।

পড়ুন : অক্ষয় কুমারের পূর্ণাঙ্গ বক্স অফিস রিপোর্ট বিশ্লেষণ!

০১. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিল্ম ইন্ডাট্রির তালিকায় এক নম্বরে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ১১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন যা রুপিতে প্রায় ৭১,৮২০ কোটি (৬৩ রুপি/মার্কিন ডলার) এবং টাকায় ৯৬,৯০০ কোটি (৮৫ টাকা/মার্কিন ডলার)। সমগ্র পৃথিবীতে ফিল্ম ইন্ডাট্রির ৩০ ভাগ দখল করে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ফলে সবচেয়ে বেশি আয় করার পাশাপাশি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি লাভও করে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার তিন ভাগের দুই ভাগ লোক অন্তত একবার হলেও ফিল্ম দেখতে সিনেমা হলে যায়। ফলে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালে এসে প্রায় ২% বেশি ব্যবসা করেছে এ দুই দেশের ফিল্ম ইন্ডাট্রিগুলো। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিল্ম ইন্ডাট্রি ‘হলিউড’ আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত। ২০১৬ সালে আয় করা ১১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারই ‘হলিউড’ আয় করে দিয়েছে।  

লেখক : রঙধারা টীম প্রধান!
কৃতজ্ঞতায় : ভিক্টর কিপরপ এবং উইকিপিডিয়া।

মতামত জানাতে মেইল বা কমেন্ট করুন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.