Header Ads

রিভিউ : ‘আমাজন অভিযান’-এ দৃশ্যায়ন বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে অকল্পনীয়!

রিভিউ : ‘আমাজন অভিযান’-এ দৃশ্যায়ন বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে অকল্পনীয়!
আমাজন অভিযান!

[রিভিউ : টালিউড]

‘আমাজন অভিযান’ ছবির অতিথি রিভিউ!


আমাজন অভিযান’, বাংলা সিনেমার সর্বোচ্চ বাজেটে নির্মিত একটি ছবি। এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছে কলকাতার দেব। ’চাঁদের পাহাড়’ ছবির ব্লকবাস্টার সাফল্য ‘আমাজন অভিযান’ ছবির নির্মাণের মূল অনুপ্রেরণা। তবে ‘চাঁদের পাহাড়’ বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের লেখা হলেও, ‘আমাজন অভিযান’ কিন্তু কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের সৃষ্ট। তবে বিভূতির সৃষ্ট ’শংকর’ এ ছবিতেও অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ ভ্রমণ পিপাসু ‘শংকর’ এ ছবিতে পাড়ি দিয়েছে ব্রাজিরে আমাজন বনে।


ছবিটির মূল কাহিনী ডোরাডোর সোনার খনির সন্ধান। মার্কো ফ্লোরিয়ানের (ডেবিড জেমস) স্বপ্নকে সত্যি করতে তার কন্যা আন্না ফ্লোরিয়ান (স্বেতলানা গুলাকোভা) কলকাতা থেকে শংকরকে (দেব) নিয়ে যায় ব্রাজিলের আমাজন বনে। সেখানে শুরু হয় শংকর-মার্কো-আন্নার আমাজন অভিযান। পদে পদে তাদের পাড়ি দিতে হয় অসংখ্য সব বিপদকে। ল্যাপার্ডে আক্রমন, অ্যানাকোন্ডার আক্রমন, কাটের জুলন্ত ব্রীজ ভাঙ্গা, ইল্টেক্ট্রিক মাছের শক, বন্য মানুষদের আক্রমন সহ ইত্যাদি প্রতিকূল পরিস্তিতি অতিক্রম করে শংকর ও আন্নার ডোরাডোর সোনার খনির আবিষ্কার। যেখানে যাওয়ার আগেই অ্যানাকোন্ডার পেটে চলে যায় মার্কো। শেষে আন্নার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শংকরের নিজ গৃহে যাত্রা-ছবির সমাপ্তি।


আমাজন অভিযান’ ছবির টুইস্ট পূর্ব-পরিকল্পনা মাফিক। অভিযান মূলক ছবিগুলোর টুইস্ট খুব একটা থাকে না বললেই চলে। কেননা আবিষ্কার কিভাবে করছে-সেটাই ছবির মূল রহস্য। তবে ছবির দৃশ্যায়ন বলতে গেলে অকল্পনীয়। ব্রাজিলের রিয়ো নিগ্রো ও রিও সলিমসের পাশাপাশি আমাজন জঙ্গলের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে ছবিটির শুট হয়। সেই সাথে জলের গভীরেও বেশ কিছু দৃশ্যের শুটিং করে কমলেশ্বর। ছবিতে যেসব লোকেশন দেখানো হয়েছে, তা কোন বাংলা সিনেমায় আগে দেখানো হয় নি। ফলে ছবিটি দর্শককে ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলে বাস্তবতার স্বাদ দিতে পেরেছে বলা যায়।


’আমাজন অভিযান’ ছবিটি অনেকটা ছোটদের জন্য নির্মিত বলে মনে হয়েছে। কেননা বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক চলচ্চিত্রপ্রেমী ‘আমাজন অভিযান’ ছবির চেয়েও ভাল ছবি ইতোমধ্যে উপভোগ করে ফেলেছে। যার ফলে ছবির গ্রাফিক্সের কাজ অনেক ক্ষেত্রে দৃষ্টিকুটু হয়েছে-যেটা সদ্য চলচ্চিত্রপ্রেমীদের চোখে ধরা না পরলেও একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক চলচ্চিত্র প্রেমীর চোখে ধরা পরতে বাধ্য। ল্যাপার্ডের আক্রমনকে আরো বাস্তবযোগ্য করে ধারণ করা যেত কিংবা অ্যানাকোন্ডার আক্রমনে আরো ধার থাকা উচিত ছিল।


আমাজন অভিযান’ ছবির যে বিষয়টি খুবই দুর্বল, তা হল অভিনয়। দেব-এর অভিনয় খুব একটা আহামরি ছিল না। তবে যতটুকু চেষ্টা করেছে, তার জন্য অবশ্যই প্রশংসা করতে হয়। তা ছাড়া ছবিতে দেব-এর সাথে আন্নার কিছুটা রোমান্টিক দৃশ্য থাকা আবশ্যক ছিল। কেননা দুইজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক নর-নারী এক সাথে ডোরাডোর সোনার খনি আবিষ্কার করল, অথচ একটুও জৈবিক উত্তেজনা দেখা যায় নি-এটা ঠিক মানা যায় না। হয়তো ছোটদের কথা মাথায় রেখেই এমনটা করা হয় নি।


সর্বশেষ বলা যায় ‘আমাজন অভিযান’ উত্তেজনাময় সিনেমা না হলেও, দেখার মত সিনেমা হয়েছে। ছবিতে ‘কল্পনাকে’ ধারণ করা হয়েছে অকল্পনীয়ভাবে। বাজেটের বিবেচনায় অনেক বেশি করার চেষ্টা দেখা যায় ‘আমাজন অভিযান’ এ। কেননা সিনেমাটি দেখলে আপনার কখনো মনে হবে কোন বাংলা সিনেমা কিংবা কোন ভারতীয় সিনেমা দেখছেন। বরং মনে হবে কোন হলিউডের ছবি বাংলা ভাষায় দেখছেন। ছবিটি নির্মাণের জন্য সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ অবশ্যই এসভিএফ এন্টারটেইনম্যান্টকেই দিতে হবে। কেননা বাংলা সিনেমার জন্য এত বড় রিস্ক তো তারাই নিয়েছে।

রিভিউ : ২.৮/৫ স্টার!

রিভিউ লেখক : আদিত্য।

আপনিও যদি রিভিউ প্রকাশ করতে চান, তবে পাঠিয়ে দেন ‘রঙধারা’য়।

পড়ুন : দেব-কে নিয়ে প্রকাশিত সব খবর!

বি.দ্র: এ রিভিউ নিয়ে আপনার কোন মতামত থাকলে, নিচে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন। সেই সাথে ‘রঙধারা’য় রিভিউ লিখে আপনিও সম্মানি অর্জন করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.